মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ এর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্টাফ রিপোর্টর :মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মহাকালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ এর ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন হতে যাচ্ছে। ইউনিয়নের বাগেশ্বর বাজারের একটি কমিউনিটি সেন্টারে এ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। অথচ সম্মেলনের দাওয়াত পাননি দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগী ও পরীক্ষিত প্রায় ৬০ ভাগ নেতাকর্মী। এমনকি দাওয়াত দেওয়া হয়নি মহাকালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুলতান বেপারীকেও। মহাকালী ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকগণ অভিযোগ করেছেন তাদের বাদ দিয়েই ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ নতুন কমিটি গঠনে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে তারা জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বরাবর অভিযোগ পত্র দাখিল করেছেন। ওই পত্রে বিভিন্ন ওয়ার্ড কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ তৃণমূল পর্যায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের স্বাক্ষর রয়েছে। পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে মহাকালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিটি ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে তাদেরকে কিছুই না জানিয়ে। নতুন কমিটিতে বিলুপ্ত ঘোষিত কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ অনেক নেতাকর্মীকে বাদ দেয়া হয়েছে। এক কথায় ওয়ার্ড কমিটিগুলোতে বিএনপি-জামাত সরকারের আমলে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভাপতির কাছে লিখিত ওই পত্রে বঞ্চিত নেতাকর্মীরা গঠিত ওয়ার্ড কমিটি গুলো বিলুপ্ত করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সম্মেলন করার দাবি জানিয়েছেন।মহাকালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হানিফ সিকদার জানান -উক্ত সম্মেলনের জানানো হয়নি দলের দুই-তৃতীয়াংশ নেতাকর্মীকে। যার কারনে তৃনমূল পর্যায়ের নেতৃবৃন্দের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে যথাযথ ব্যাবস্হা না নিলে ঘটতে পারে মোল্লাকান্দি ইউনিয়ন এর মত সংঘর্ষ ও সম্মেলন পন্ডের ঘটনা।গত ৭ অক্টোবর মুন্সিগঞ্জ সদরের মোল্লাকান্দী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে প্রায় ৫০ জন হতাহতের ঘটনা ঘটে। সেই একই ঘটনা এখানে ঘটতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন মহাকালী ইউনিয়ন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বেশীরভাগ সাবেক সভাপতি ও সাধারন সম্পাদকগন। তারা অভিযোগ করেন যে, উক্ত সম্মেলন বিষয়ে তাদের কাউকে না জানিয়ে পকেট কমিটি গঠনের ষড়যন্ত্র করছে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি শহিদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক জিয়াউল হাসান বীরেন।এ অভিযোগের ব্যাপারে উক্ত ইউনিয়ন এর বাসিন্দা জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক গাজী মনসুর আহমেদ সত্যতা স্বীকার করে জানান- বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত আছি এবং তারা যে অভিযোগ পত্র দাখিল করেছে আমি এর সমর্থন করি।এ ঘটনায় মুন্সিগঞ্জ শহর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহতাবউদ্দিন কল্লোল ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান – উদ্দেশ্যে প্রনোদিতভাবে দলের বেশীরভাগ নির্যাতিত ও দুঃসময়ের নেতাকর্মীদের নাজানিয়ে এ সম্মেলন করা হচ্ছে। এখানে ত্যাগী নেতা কর্মীদের বাদ দিয়ে হাইব্রিড আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে। আওয়ামী লীগের বেশীরভাগ নেতা কর্মীদের জানানো না হলেও তারা সম্মেলনে উপস্হিত থাকবে। কোন ধরনের চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত তারা মেনে নিবেনা।অভিযোগের বিষয়ে সম্মেলনের আয়োজক মহাকালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শহীদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান – বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে অভিযোগপত্র দাখিল করার ঘটনা সত্য। তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান তাদের অভিযোগ খারিজ করে জানিয়েছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।এবিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সম্মেলন পর্যবেক্ষক কমিটির প্রধান জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শেখ লুৎফর রহমান ও পর্যবেক্ষক কমিটির সদস্য জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক এড. সোহানা তাহমিনার সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে