আলু রোপনের মৌসুম সামনে রেখে সিরাজদিখান বাজারে সাপ্তাহি হাটে লাঙ্গল বিক্রি চলছে

সিরাজদিখান (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি: আলু রোপনের মৌসুম সামনে রেখে সিরাজদিখান উপজেলায় লাঙ্গল বিক্রির ধুম পড়েছে। সিরাজদিখান বাজারে সাপ্তাহিক হাটের দিন লাঙ্গল কেনাকাটা করে চলেছেন কৃষককুল। প্রতি বুধবার ওই বাজারে লাঙ্গল নিয়ে পসরা বসিয়ে থাকেন বিক্রেতারা। জানা গেছে- বর্ষা মৌসুম শেষ হতে না হতেই আলু রোপন মৌসুমের সামনে কৃষককুল প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি কেনাকাটা করছেন। এরই অংশ হিসেবে জমি প্রস্তুত করার লক্ষ্যে লাঙ্গল কেনাকাটার ধুম পড়েছে বলে বাজারের লাঙ্গল বিক্রেতারা জানিয়েছেন। জানা গেছে- উপজেলার কয়েকটি গ্রামে লাঙ্গল তৈরী করা হয়ে থাকে। আর লাঙ্গল তৈরীতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মিস্ত্রীরা। একান্ত আলাপচারিতায় তারা জানিয়েছেন- তিনটি জিনিস দিয়ে তৈরি হয় লাঙ্গল। এর মধ্যে ইস, নাঙ্গল, ফাল দিয়ে তৈরি হয় পূর্নাঙ্গ একটি লাঙ্গল। এটি তৈরীর অন্যতম একটি উপকরণ হচ্ছে কাঠ। আর কাঠের গুনগত মানের ব্যবধানের কারনে একেকটি লাঙ্গলের দাম একেক রকম হয়ে থাকে। সারেন্দ্র ও গাত দুই ধরনের লাঙ্গল বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকায়। উপজেলার চম্পকদি গ্রামের কৃষক সোরহাব বলেন, আর ১০ থেকে ১৫ দিন পর থেকে আলু রোপন শুরু হবে। তাই জমি প্রস্তুত করার জন্য উপকরণ হিসেবে লাঙ্গলসহ আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি কিনে নিচ্ছি। তবে গত বছরের তুলনায় এ বছর লাঙ্গলের দাম একটু বেশি। ১ হাজার ৩০০ টাকা দিয়ে একটি নাঙ্গল কিনেছি। তাও ত্রুটি থাকার কারনে বিক্রেতা লাঙ্গলটির দাম কম রেখেছেন। উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের লাঙ্গল বিক্রেতা শান্তি মিস্ত্রী বলেন, দীর্ঘ দিন যাবত আলুর মৌসুমে সিরাজদিখান বাজারে লাঙ্গল বিক্রি করে থাকি। মোটা ও চিকন ধরনের লাঙ্গল তৈরী করে থাকি। ক্রেতা নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী এ লাঙ্গল কিনে থাকেন। লাঙ্গল তৈরিতে লোহা ও বরই কাঠ বেশি ব্যবহৃত হয়। একটি লাঙ্গল তৈরী করতে ১ হাজার ২০০ টাকা খেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা খরচ হয়ে থাকে। পানিয়া খিলগাও গ্রামের বিক্রেতা মহাদেব মিস্ত্রি বলেন, আলু রোপন মৌসুম এলেই সিরাজদিখান বাজারে লাঙ্গল বিক্রির ধুম পড়ে। কৃষককুল বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে লাঙ্গল কেনাকাটা শুরু করে থাকেন। কৃষকদের চাহিদার কথা ভেবে বছরের এ সময়ে লাঙ্গল তৈরী করে থাকেন মিস্ত্রীরা

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে