মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার ওসির জনবান্ধনমূলক কর্মসূচি

0
115
মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার ওসির জনবান্ধনমূলক কর্মসূচি 
  • মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধিঃমুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মো: আওলাদ হোসেন পিপিএম আধুনিক জনবান্ধব গনমুখী কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে ব্যাতিক্রমি উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। যার মূল উদ্দেশ্য হল পুলিশ ও জনতার সেতু বন্ধন তৈরী করা এবং পুলিশের সেবা মানুষের দোর গোড়ায় পৌঁছে দেয়া। যাতে মানুষের আর দালানের মাধ্যমে থানায় যেতে না হয়। পুলিশই এখন জনগনের কাছে যাবে এবং তাদের সমস্যা শুনে সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্হা নিবে। ছোট খাটো অপরাধীদের সমাজিক ভাবে এই কমিটির দায়িত্বে ভালো হওয়ার সুযোগ প্রদান করা হবে। ভালো না হলে পরে আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে।এই লক্ষ্যে তিনি টঙ্গীবাড়ী উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নে ১৩০ ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করছেন। প্রতিটি কমিটিতে ১০ জন উপদেষ্ঠা ও ২৫ জন সদস্য থাকবে। সর্বমোট টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় কমিউনিটি পুলিশের সংখ্যা হবে ৪৫০০ জন। তাদেরকেই নিয়ে এই কমিটি গঠন করা হবে যাদের বিরুদ্ধে সামাজিক কোন অপরাধের অভিযোগ নেই, শিক্ষিত ও সমাজের সবার কাছে গ্রহণযোগ্য সুজন নাগরিক।টঙ্গীবাড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ শাহ্ মো: আওলাদ হোসেন জানান, কমিউনিটি পুলিশ মানে সমাজের পুলিশ। যাদের প্রধান কাজ সমাজের সমাজিক সমস্যা ও অপরাধমূলক কাজ কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে নিবারন করা। যেমন সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মাদক, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, সামাজিক ফ্যাসাদ, টাউট বাটপারি সহ যে কোন অত্যাচারীমূলক কর্মকান্ড স্হানীয়ভাবে প্রতিরোধ ও সমাধান করা। তারা ব্যার্থ হলে ওসিকে জানিয়ে থানারমাধ্যমে আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে।এরই মধ্যে তিনি অধিকাংশ ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু করেছেন। তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে মানুষের বিভিন্ন অভিযোগ শুনে তাৎক্ষনিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহন করেন। এসময় স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার ও কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ কয়েক শত মানুষ উপস্থিত ছিলেন। তিনি সকলকে জানান, আমি আপনাদের সেবা দিতে এ উপজেলায় এসেছি, আপনারা আমাকে যে কোন বিষয়ে নির্ভয়ে সরাসরি বলতে পারেন। এসময় আমি আপনাদের সহযোগীতায় এ উপজেলাকে অপরাধ মুক্ত করব। আমি এ উপজেলায় জনগনের মধ্যে পুলিশি ভীতি দূর করে জনগনকে পুলিশি কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করতে চাই। তৃনমূল পর্যায়ের প্রান্তিক মানুষেরা থানার ওসিকে তাদের নাগালে তথা দোরগোড়ায় পেয়ে তাদের সমস্যাগুলো সামনাসামনি বসে বলেন এবং তাৎক্ষনিক ভাবে বিষয় গুলোর সমাধান করা হয়। এই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির উদ্যোগে আবদুল্লাহপুর ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে চিহ্নিত ও সাজাপ্রাপ্ত সহ পাঁচ মাদক ব্যবসায়ি পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম পিপিএম এর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং ভাল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়াও অন্যান্য ওয়ার্ডে অনেক মানুষই তাদের সমস্যা তুলে ধরেন। ওসি তখনই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সহায়তায় কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে অধিকাংশ সমস্যা সমাধান করে দেন। যার মধ্যে একটি ঘটনায় আবদুল্লাহপুর ৩নং ওয়ার্ড নিবাসী রোকেয়া বেগম তার স্বামী অটোরিকশা চালক সোহেল মিয়ার নামে মাদক সেবনে ও বাধা প্রদানে মারধরের অভিযোগ করেন। ওসি তখনই কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির মাধ্যমে সোহেল মিয়াকে ডেকে কাউন্সিলিং এর মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান করেন। এবং কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির কাছে দায়িত্ব প্রদান করেন সোহেল মিয়ার প্রতি নজরদারি ও তার পরিবারের নিরাপত্তার। এবং সোহেল মিয়াকে সাবধান করা হয় পরবর্তিতে এধরণের ঘটনা ঘটলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্হা গ্রহণ করা হবে। রোকেয়া বেগম এত তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং পুলিশের সেবা এত সহজে পাওয়ায় অবাক হয়ে যান। তার এই জনবান্ধনমূলক উদ্যোগ টঙ্গীবাড়ীসহ উপজেলার জনগনের মাঝেও ব্যাপক সাড়া পড়েছে। আর ইতিমধ্যে গত ৭ ই আগষ্ট থেকে আত্মসমর্পণ করা মাদক ব্যাবসায়ীদের পূনর্বাসনের লক্ষ্যে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা কর্মসূচি শুরু হয়েছে।টঙ্গীবাড়ী থানার এই অফিসার ইনচার্জ জানান, জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সাধারন মানুষের মধ্যে থাকা পুলিশি ভীতি দূর করে গনমুখী পুলিশিং কার্যক্রম স্থাপন করতেই এ উদ্যোগ তিনি গ্রহন করেছেন। তিনি প্রতিদিন থানায় বসে অফিস করার পাশাপাশি দিনের যে কোন একটি সময়ে যে কোন গ্রামে গিয়ে এমনিভাবে সাধারন মানুষের সমস্যার কথা শুনবেন এবং তাৎক্ষনিক সমাধানের ব্যবস্থা নিবেন।টঙ্গীবাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান জনাব জগলুল হালদার ভুতু ওসি সাহেবের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন- ওনি তৃনমূল পর্যায়ে এত নিখুঁত ভাবে কমিটি গঠন করেছেন যা আমাদের পক্ষে সম্ভব হতোনা। সমাজের সব ধরনের খারাপ মানুষকে তিনি কমিটির বাইরে রেখেছেন। শুধু ভালো ও গ্রহণযোগ্য মানুষদের নিয়েই কমিটি গুলো করা হয়েছে। আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করব তাকে সব ধরনের সহায়তা করার। তার এই ব্যাতিক্রমি জনবান্ধনমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে মুন্সিগন্জ জেলা পুলিশ সুপার মোঃ জায়েদুল আলম পিপিএম বলেন,- টঙ্গীবাড়ীর ওসি যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন আমি মনে করি নিঃসন্দেহে এটা আমার আমার প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর যে লক্ষ্য, যে পুলিশের সেবা জনগনের মাঝে পৌঁছে দেয়া তা সহজেই বাস্তবায়ন সম্ভব।  স্হানীয় সাংসদ জনাব সাগুফতা ইয়াছমিন এমিলিও এই উদ্যোগের ব্যাপক প্রশংসা করে জানান,- আমাদের টঙ্গীবাড়ী থানার ওসি অনেক পরিশ্রম করে প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের মাধ্যমে যে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছেন তা ব্যাপক প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে মাদক ব্যাবসায়ী সহ বিভিন্ন অপরাধীরা নিজেরা পুলিশের কাছে এসে ভাল হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। আমরাও চেষ্টা করছি এসব ব্যাক্তিদের কর্মসংস্থান এর ব্যাবস্হা করতে, যাতে তারা আর এই পথে না যায়। আমি টঙ্গীবাড়ীর ওসির এই জনবান্ধনমূলক কর্মসূচিকে স্বাগত জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগীতা করে জনতা ও পুলিশের সেতু বন্ধন সৃষ্টি করতে চাই।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে