রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বার ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বঙ্গাব্দ
জাতীয়

জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রের  বৈধতা নেই: হাইকোর্ট

Alokito Songbad ১৩ সেপ্টেম্বার ২০২৬ ১১:৪৬ এ.এম

জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রের  বৈধতা নেই: হাইকোর্ট

কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকের কাছ থেকে বলপ্রয়োগ করে বা চাপে রেখে নেওয়া পদত্যাগপত্রের কোনো আইনি ভিত্তি বা কার্যকারিতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ে হাইকোর্ট এই অভিমত ব্যক্ত করেছেন এবং স্পষ্ট করে বলেছেন যে প্রচলিত আইন বা বিধিমালা কখনোই জোরপূর্বক আদায় করা পদত্যাগকে বৈধতা দেয় না। আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছেন যে, এ ধরনের অনৈতিক ও বেআইনি উপায়ে পদত্যাগে বাধ্য হওয়া শিক্ষককে অবিলম্বে তাঁর নিজ পদে সসম্মানে পুনর্বহাল করতে হবে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গোলাম নবী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদের করা একটি রিট মামলার চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। আদালতের এই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি ইতোমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে এবং এটি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. ইকবাল কবির নিজে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ১৪ আগস্ট একটি পক্ষ প্রধান শিক্ষক মো. আলকাছ উদ্দিন আহমেদের পূর্ণ অনিচ্ছা সত্ত্বেও তাঁর কাছ থেকে জোরপূর্বক একটি সাদা কাগজে বা পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর আদায় করে নেয়। এই ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে ওই শিক্ষক পরদিনই স্থানীয় কালিয়াকৈর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করেন এবং পরবর্তী সময়ে জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এছাড়া সুবিচার পাওয়ার আশায় তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবরও বিস্তারিত জানিয়ে আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছিলেন। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড তাঁকে স্বপদে বহাল করার নির্দেশ দিলেও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সেই নির্দেশ কার্যকর করেনি। বাধ্য হয়ে প্রধান শিক্ষক আলকাছ উদ্দিন আহমেদ আদালতের দারস্থ হন এবং গত বছর হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন দায়ের করেন, যার প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত রুল জারির পাশাপাশি পদত্যাগপত্রটির কার্যকারিতা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছিলেন।

মামলার চূড়ান্ত রায়ের পর্যবেক্ষণে হাইকোর্ট উল্লেখ করেছেন যে, রিট আবেদনকারী শিক্ষক স্বেচ্ছায় নিজের পদ ছাড়েননি বরং তাঁর স্বাক্ষর বলপূর্বক নেওয়া হয়েছিল যা আইনগতভাবে সম্পূর্ণ বাতিলযোগ্য। আদালত আরও জানান যে, ওই শিক্ষক ২০২৫ সালের জুলাই মাস পর্যন্ত তাঁর নিয়মিত এমপিও বা বেতন-ভাতা ভোগ করেছেন, যা প্রমাণ করে যে তিনি তখনও আইনগতভাবে ওই পদের বৈধ অধিকারী ছিলেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ হিসেবে শিক্ষা বোর্ডের যেকোনো সিদ্ধান্ত বা নির্দেশনা মেনে চলা বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের জন্য আইনিভাবে বাধ্যতামূলক হলেও তারা সেটি ইচ্ছাকৃতভাবে অমান্য করেছে। আদালতের মতে, ম্যানেজিং কমিটির এই ধরনের গড়িমসি ও সিদ্ধান্ত অমান্য করার প্রবণতা স্পষ্টতই ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা এবং প্রচলিত ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। কর্তৃপক্ষের এই ধরনের নিষ্ক্রিয়তা ও দায়িত্বহীনতা মূলত ভুক্তভোগী শিক্ষকের মৌলিক ও আইনগত অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন বলে রায়ে মন্তব্য করেন আদালত।

আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে এই রায়ে। হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, রায় প্রকাশের পর অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটির মাধ্যমে ওই প্রধান শিক্ষককে তাঁর নিজ পদে পুনর্বহাল নিশ্চিত করতে হবে। যদি এই নির্দেশ পালনে কোনো ধরনের অবহেলা বা গড়িমসি করা হয়, তবে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ বা ম্যানেজিং কমিটি সম্পূর্ণ বাতিল করা, পর্ষদের সভাপতিকে স্থায়ীভাবে অপসারণ করা এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক যিনি একই সঙ্গে পর্ষদের সদস্য-সচিব—তাঁদের এমপিও বা সরকারি বেতন-ভাতা চিরতরে বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর শাস্তির সুপারিশ করা হয়েছে। এই রায়ের ফলে দেশের শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষক নিপীড়ন ও জোরপূর্বক পদত্যাগের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী আইনি সুরক্ষা তৈরি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


এই সম্পর্কিত আরও খবর

আরও খবর

news image

স্কুলে যাওয়ার পর নিখোঁজ, বিদ্যালয়ের পাশের বাড়ির মাটির নিচে মিললো মরদেহ

news image

পণ্যের আলোচনা করলেই বিজ্ঞাপন আসছে! ফোনের আড়ি পাতা বন্ধ করুন

news image

জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রের  বৈধতা নেই: হাইকোর্ট

news image

জাভা সাগরে ২৪০ যাত্রী নিয়ে ইন্দোনেশিয়ার জাহাজ নিখোঁজ

news image

ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ, মিলছে না সন্ধান

news image

নোয়াখালী পৌর বণিক সমিতির নির্বাচন: আপেল সভাপতি, মুকুল সম্পাদক

news image

সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের নতুন রানি রাইবাকিনা

news image

সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে ইউএস ওপেনের নতুন রানী রিবাকিনা

news image

বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচতে ডেকে দুই নৃত্যশিল্পীকে দলবদ্ধ ধর্ষণ

news image

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে ২ বাংলাদেশি নিহত

news image

সরকারি পে-স্কেল অনুমোদন: বেসরকারি কর্মীদের বেতন-চাকরির সুরক্ষা কতদূর?

news image

পুকুরে স্যান্ডেল ভাসতে দেখে উদ্ধার করা হলো ভাই-বোনের মরদেহ

news image

ইরাক থেকে ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ

news image

২২ বছর আগের ভ্রূণ থেকে মা হলেন গ্রিক নারী

news image

দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে দাপুটে জয়ে সিরিজ রিশাদ-সাইফদের দখলে

news image

গুলশানে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, গ্রেফতার ২৫ জন রিমান্ডে

news image

লাল বলের ক্রিকেটই আমার শেষ আশ্রয়: আফ্রিদি

news image

‘অতিমাত্রায় রাজনীতিতে শিক্ষকরা’, লাগাম টানতে হচ্ছে আচরণবিধি

news image

‘হিরো আলমই ভালো ছিল’, কেন বললেন জয়

news image

ড্রোন, সাইবার হামলা, অপপ্রচার: ইউরোপে যে 'হাইব্রিড যুদ্ধ' চালানোর অভিযোগ রাশিয়ার বিরুদ্ধে

news image

শ্রীপুরে পৃথক স্থানে ২ অচেতন ব্যক্তি উদ্ধার, উদ্বেগ বাড়ছে

news image

নতুন কারা মহাপরিদর্শক ও অতিরিক্ত কারা মহাপরিদর্শকের নিয়োগ বাতিল

news image

ট্রাম্পকে নতুন সঙ্কটে ফেলেছে হুথিরা

news image

২০২৭ সালে তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে: দুলু

news image

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী চূড়ান্ত হবে যেদিন

news image

দোকান খুলে ক্রেতার অপেক্ষা, ক্রেতা আসার সময় হলেই বিদ্যুৎ উধাও

news image

অভিনেত্রীর বাড়িতে ভয়াবহ চুরি

news image

কোকেনের সূত্রে ৬৩ বিদেশির আস্তানা, গ্রেফতার সেই মহসিন

news image

নোংরা পরিবেশে আইসক্রিম উৎপাদন, লোহাগাড়ায় কারখানা বন্ধ

news image

ডাকসুর পরবর্তী নির্বাচন নিয়ে জোরালো আলোচনা